অটোমোবিল শপে ব্যবহৃত মেজারিং টুলস | এককের বিভিন্ন পদ্ধতি | অটোমোবিল ইঞ্জিনিয়ারিং

অটোমোবিল শপে ব্যবহৃত মেজারিং টুলস:

Table of Contents

অটোমোবিল শপে ব্যবহৃত মেজারিং টুলস | এককের বিভিন্ন পদ্ধতি | অটোমোবিল ইঞ্জিনিয়ারিং

(ক) ফিলার গেজ :

ফিলার গেজ অর্থাৎ পাত … স্টীলের এক গুচ্ছ ব্লেড বা পাতা। এই গেজ বিভিন্ন মাপের হয়। যেমন, কোনটি ব্লেড এক থাউ (এক হাজার ভাগের এক ভাগকে থাউ বলে), কোনটি দুই থাউ, কোনটি তিন থাউ, কোনটি পাঁচ থাউ, দশ থাউ ইত্যাদি মাপের হয়। এই গেজ দ্বারা দুটি যন্ত্রাংশের মধ্যে কতটুকু ফাঁকা আছে বা রাখা হবে তা নির্ণয় করা যায়। (চিত্র ১.২১ ক-খ)। যেমন পিস্টন ও সিলিন্ডারের স্পার্ক প্লাগের সি.বি. পয়েন্টের দূরত্ব ইত্যাদি পরিমাপ করা হয়।

 

অটোমোবিল টুলস এন্ড ইকুইপমেন্টস | এককের বিভিন্ন পদ্ধতি | অটোমোবিল ইঞ্জিনিয়ারিং

 

(খ) ইনসাইড ক্যালিপার :

এই ক্যালিপার দ্বারা গোলাকার বা ফাঁপা বস্তুর ভিতরের ব্যাস পরিমাপ করা যায়। যেমন—সিলিন্ডার, মাস্টার সিলিন্ডার, হুইল সিলিন্ডার, পাইপ ইত্যাদি পরিমাপ করা হয়। পরিমাপের পর ক্যালিপারটিকে একটি স্কেলের উপর রেখে দেখতে হবে যে পরিমাপকৃত বস্তুর ব্যাস কত। এর একটি সেট স্ক্রু আছে, যার সাহায্যে নির্দিষ্ট কোন মাপকে পরিমাপ করে রাখা যায় (চিত্র ১.২২)।

 

অটোমোবিল শপে ব্যবহৃত মেজারিং টুলস

 

অটোমোবিল শপে ব্যবহৃত মেজারিং টুলস | এককের বিভিন্ন পদ্ধতি | অটোমোবিল ইঞ্জিনিয়ারিং

 

(গ) আউটসাইড ক্যালিপার :

এই ক্যালিপার গোলাকার বস্তুর বাইরের ব্যাস পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইহা দ্বারা পরিমাপের পর ক্যালিপারটিকে স্কেলের উপর স্থাপন করে ব্যাসের পরিমাণ বের করা হয়। এর একটি সেট স্ক্রু আছে, যার সাহায্যে নির্দিষ্ট কোন মাপকে ইচ্ছামত ক্যালিপারে ধারণ করে রাখা যায়। এটি ছোট বা বড় হয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না (চিত্র ১,২৩)।

 

অটোমোবিল শপে ব্যবহৃত মেজারিং টুলস | এককের বিভিন্ন পদ্ধতি | অটোমোবিল ইঞ্জিনিয়ারিং

(ঘ) টেলিস্কোপিং গেজ :

এই গেজ দ্বারা কোন বস্তুর ভিতরের কোন অংশ কতটুকু উঁচু-নীচু হয়েছে বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে তা নির্ণয় করা যায়। এর একটি সেট স্ক্রু আছে।

 

অটোমোবিল শপে ব্যবহৃত মেজারিং টুলস | এককের বিভিন্ন পদ্ধতি | অটোমোবিল ইঞ্জিনিয়ারিং

 

(ঙ) মাইক্রোমিটার :

মাইক্রোমিটার দুই ধরনের। ইনসাইড মাইক্রোমিটার এবং আউটসাইড মাইক্রোমিটার। এই মাইক্রোমিটার দ্বারা এক হাজার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত পরিমাপ করা যায়। ইনসাইড মাইক্রোমিটার দ্বারা সিলিন্ডার এবং অন্যান্য বস্তুর ভিতরের ক্ষয়প্রাপ্ততা নির্ণয় করা যায়। আউটসাইড মাইক্রোমিটার দ্বারা গোলাকার বস্তুর যেমন, ক্র্যাঙ্কশ্যাফটের ক্ষয়প্রাপ্ততা নির্ণয় করা যায়। ক্ষয়প্রাপ্ততা ইঞ্চিতে অথবা মিলিমিটারে নির্ণয় করা যায়।

 

অটোমোবিল শপে ব্যবহৃত মেজারিং টুলস | এককের বিভিন্ন পদ্ধতি | অটোমোবিল ইঞ্জিনিয়ারিং

 

ডায়াল ইন্ডিকেটর বা গেজ : এটি একটি বিশেষ ধরনের গেজ। এর একটি বিশেষ ধরনের ডায়াল আছে। ডায়ালের উপর দাগ কাটা আছে পরিমাপের জন্য। ঘড়ির কাঁটার মত একটি কাঁটা আছে, ডায়ালের উপর নড়াচড়া করে ক্ষয়প্রাপ্ততার পরিমাণ অনুসারে। এর একটি লম্বা হ্যান্ডেল আছে এবং কয়েকটি এক্সটেনশন বার (extension bar) আছে। ঐ বারগুলি বিভিন্ন মাপের হয়। সিলিন্ডার ছোট বড় হলে সেই অনুসারে ছোট এবং বড় বার ডায়ালের সাথে যুক্ত করা হয়। লম্ব হ্যান্ডেলটি ডায়ালের সাথে ফিট করে ডায়াল গেজটি সিলিন্ডারের মধ্যে প্রবেশ করানো হয় এবং উপরে, নীচে এবং মধ্যভাগের (সিলিন্ডারের) মাপ নেওয়া হয়।

মাপের তারতম্য অনুসারে ডায়ালের কাঁটাটি ডায়ালের উপর ঐ মাপ প্রদর্শন করবে। এই মাপের তারতম্য হতেই জানা যায় সিলিন্ডারটির— কোথায়, কত কম এবং কত বেশী ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। এ থেকে জানা যাবে সিলিন্ডারটি বোরিং করতে হবে কি-না।

 

অটোমোবিল শপে ব্যবহৃত মেজারিং টুলস | এককের বিভিন্ন পদ্ধতি | অটোমোবিল ইঞ্জিনিয়ারিং

 

পাওয়ার টুলস অটোমোবিল শপে নিম্নলিখিত পাওয়ার টুলস ব্যবহৃত হয়। যেমন : ১। বোরিং মেশিন, ২। হোনিং মেশিন, ৩। ড্রিলিং মেশিন, ৪। ভালভ রিফ্লেসিং মেশিন, ৫। ডিস্ট্রিবিউটর টেস্টার, ৬। হাইড্রমিটার, ৭। ভোল্ট মিটার, ৮। অ্যামেটার, ৯। গ্রোউলার, ১০। হাইড্রলিক প্রেস, ১১। হাইড্রলিক জ্যাক, ১২। মেকানিক্যাল জ্যাক, ১৩। হাইড্রলিক লিফট, ১৪। রিভিউ সেটার, ১৫। স্পার্ক প্লাগ টেস্টার, ১৬। ক্যাম অ্যাঙ্গেল, ডুয়েল অ্যাঙ্গেল, ভ্যাকুয়াম এবং সেন্ট্রিফিউগাল এডভান্স টেস্টার,

১৭। স্প্রিং টেস্টার, ১৮। ইনজেকটর টেস্টার, ১৯। হাইপ্রেসার পাম্প টেস্টার, ২০। এয়ার কম্প্রেসর, ২১। কম্প্রেশন টেস্টার, ২২। টায়ার প্রেসার গেজ, ২৩। আরবর প্রেস, ২৪। ইলেকট্রিক হ্যান্ড ড্রিল, ২৫। বেঞ্চ ভাইস, ২৬। হ্যাকস, ২৭। লেদ মেশিন, ২৮। ব্রেক সু কাটার এবং এডজাস্টার, ২৯। ব্রেক ড্রাম লেদ, ৩০। পাওয়ার গ্রীজ গান, ৩১। কারবুরেটর ক্লিনার, ৩২। স্টীম ক্লিনার, ৩৩। হট ট্যাঙ্ক, ৩৪। গ্লাস বেড ক্লিনার, ৩৫। গ্রাইডিং স্টোন, ৩৬। টেকো মিটার, ৩৭। ইলেকট্রিক সোল্ডারিং আয়রন।

পাওয়ার টুলস-এর সংক্ষিপ্ত ব্যবহার ও পরিচিতি

১। বোরিং বার :

ইঞ্জিনের সিলিন্ডার যখন বেশী ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তখন উহা বোরিং বা কাটার জন্য এই টুলস ব্যবহৃত হয়। উহা ইলেকট্রিক মোটরের সাহায্যে চলে। বোরিং বারের সঙ্গে কাটিং বিট (tool bit) ফিটিং করে দিতে হয়। বোরিং বা ঘুরে ঘুরে সিলিন্ডারকে কাটে।

২। হোনিং মেশিন :

ইঞ্জিন সিলিন্ডার বোরিং করার পর হোনিং করতে হয়। এতে সিলিন্ডার ওয়াল মসৃণ হয়। অনেক সময় সিলিন্ডার ওয়াল সামান্য ক্ষয়প্রাপ্ত হলে মসৃণ হোনিং স্টোন দ্বারা হোনিং করে দিলে সিলিন্ডার ওয়াল মসৃণ হয়। এতে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়।

৩। ড্রিলিং মেশিন :

লৌহ দণ্ড, লৌহ পাত, মোটরযানের কোন যন্ত্রাংশ ইত্যাদিকে ছিদ্র করার জন্য ড্রিলিং মেশিন ব্যবহৃত হয়। ইহা ইলেকট্রিক মোটরের সাহায্যে চলে। এর চাকে (chuck) ড্রিল দুটি বিট দৃঢ়ভাবে বেঁধে দিতে হয়। কাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন সাইজের ড্রিল বিট ব্যবহৃত হয়।

৪। ভাল্ভ রিফেসিং মেশিন :

মোটরগাড়ীর ইঞ্জিনের ইনটেক ও একজস্ট (intake and exhaust valve) ভাল্ভ ব্যবহৃত হয়। ইঞ্জিন চলতে চলতে এই ভাল্ভগুলির ফেস নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা লোপ পায়। তখন ঐ ভালভগুলিকে খুলে রিফেসিং করে দিতে হয় উক্ত মেশিনের সাহায্যে। ভাল্ভগুলি সাধারণত ৪৫° তে রিফেসিং করা হয়। এই মেশিন বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে চলে। এতে গ্রাইন্ডিং স্টোন থাকে, যার সাহায্যে রিফেসিং করা হয়।

৫। ডিস্ট্রিবিউটর টেস্টার :

ইঞ্জিন (পেট্রোল) ইগনিশনের জন্য ডিস্ট্রিবিউটর ব্যবহার করা হয়। ইঞ্জিন কার্যোপযোগী আছে কিনা তা নির্ণয় করাই এই টেস্টারের উদ্দেশ্য। ইঞ্জিনের বিভিন্ন স্পীডে ডিস্ট্রিবিউটর ঠিকমত কাজ করে কিনা তা বুঝা যায়। এটি বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে চালিত হয়।

৬। হাইড্রোমিটার :

এই মিটারের দ্বারা স্টোরেজ ব্যাটারীর ইলেকট্রোলাইটের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণয় করা যায়। হাইড্রোমিটারের মধ্যে একটি ফ্লোট আছে যা ভেসে থাকতে পারে ইলেকট্রোলাইটের মধ্যে। এই ফ্লোটে দাগ কাটা আছে এবং আপেক্ষিক গুরুত্বের নম্বর দেওয়া আছে, যেমন— ১.১১০, ১.১৫০, ১.২০০, ১.২৫০, ১.২৭৫, ১.৩০০। আপেক্ষিক গুরুত্ব যত কম (১,১১০) ব্যাটারী তত ডিসচার্জ হয়। আবার আপেক্ষিক গুরুত্ব যত বেশী (যা ফ্লোটে প্রদর্শিত হয়) ব্যাটারী তত চার্জ হয়। ফ্লোটে নম্বর যদি ১.২৫০ হতে ১.২৯০ দেখায় তবে ব্যাটারী পুনঃ চার্জ বুঝতে হবে।

৭। ভোল্ট মিটার :

এই মিটারের সাহায্যে বিদ্যুতের ভোল্ট পরিমাপ করা যায়। ইহাকে লাইনে প্যারালাল কানেকশন দিতে হয়।

৮। অ্যামেটার :

একে বিদ্যুৎ মাপার মিটার বলে। বিদ্যুতের একক অ্যাম্পেয়ার। এই মিটারের সাহায্যে তা নির্ণয় করা যায়। এই মিটারে সিরিজ কানেকশন দিতে হয়।

৯। গ্রোউলার :

ইহা একটি বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিক টেস্টার। এর সাহায্যে মোটর এবং ডায়নামোর শর্ট সার্কিট ইত্যাদি পরীক্ষা করা যায়। এর দুইটি টেস্ট প্রড (prod) আছে। তা দ্বারা পরীক্ষা করতে হয়।

১০। হাইড্রলিক প্রেস :

এর সাহায্যে কোন বড় জিনিসকে চাপের সাহায্যে ছোট করা যায় বা বেশী জিনিসকে চাপের মাধ্যমে আকারে ছোট করা যায়। আবার কোন আঁটানো জিনিসকে চাপের সাহায্যে সহজে খোলা অথবা লাগানো যায়।

১১। হাইড্রলিটার জ্যাক :

এই জ্যাকে হাইড্রলিক তেল ব্যবহার করা হয়। এর সাহায্যে কোন ভারী জিনিসকে অতি সহজে উত্তোলন করা যায়।

১২। মেকানিক্যাল জ্যাক :

এই জ্যাকে কোন তেল ব্যবহার করা হয় না। ইহা দ্বারাও ভারী বস্তুকে উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হয়। গাড়ীর ঢাকা খোলা ও লাগানোর কাজে জ্যাক খুব প্রয়োজনীয়।

১৩। হাইড্রলিক লিফট :

এই লিফট দ্বারা মোটরযানকে উপরে (৪” – ৫” ) উঠানো যায়। গাড়ীর বিভিন্ন যন্ত্র পরীক্ষা করা যায় এবং প্রয়োজনীয় মেরামত সুষ্ঠুভাবে করা যায়। হাইড্রলিক লিফট উত্তোলনের জন্য কম্প্রেস্ট এয়ার এবং হাইড্রলিক তেল ব্যবহৃত হয়।

১৪। রিভিট সেটার :

একাধিক মেটালকে রিভিউ-এর সাহায্যে সংযুক্ত করার জন্য এবং এই কাজটি সুচারুভাবে সম্পাদনের জন্য রিভিট সেটার ব্যবহৃত হয়। ব্রেক সু-লাইনিং এবং ক্লাচ লাইনিংকে রিভিট করার কাজেও রিভিট সেটার ব্যবহৃত হয়।

১৫। স্পার্ক প্লাগ টেস্টার ও ক্লিনার :

এই টেস্টারের সাহায্যে স্পার্ক প্লাগের স্পার্ক ঠিক মত হয় কিনা তা নির্ণয় করা যায় এবং পরিষ্কারও করা যায়। পরিষ্কার করার জন্য প্রথমে স্যান্ড ব্লাস্ট এবং পরে এয়ার ব্লাস্ট দ্বারা পরিষ্কার করতে হয়।

১৬। ক্যাম অ্যাঙ্গেল, ডুয়েল অ্যাঙ্গেল, ভ্যাকুয়াম এবং সেন্ট্রিফিউগাল অ্যাডভান্স টেস্টার :

ইহা একটি খুবই সূক্ষ্মধর্মী টেস্টার। এই টেস্টারের সাহায্যে ক্যাম অ্যাঙ্গেল, ডুয়েল অ্যাঙ্গেল, ভ্যাকুয়াম এবং সেন্ট্রিফিউগাল অ্যাডভান্স ইত্যাদি টেস্ট করা যায়। ইহাকে সান মাস্টার টেস্টারও বলে।

১৭। স্প্রিং টেস্টার :

এই টেস্টারের সাহায্যে কয়েল স্প্রিং এর টেনশন টেস্ট করা যায়। এর একটি ডায়ালগেজ, স্কেল, আপার এনভিল এবং লোয়ার এনভিল আছে।

১৮। ইনজেকটর টেস্টার :

এই টেস্টারের সাহায্যে ডিজেল ইঞ্জিনের ইনজেকটরের প্রেসার ঠিক আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়। এই টেস্টারের একটি প্রেসার মিটার, ইনজেকটর হোল্ডার, অপারেটিং লিভার, ডিজেল, ট্যাঙ্ক, এয়ার ব্লিডিং স্ক্রু আছে।

১৯। হাইপ্রেসার পাম্প প্রেসার :

পাম্প টেস্টারের সাহায্যে ডিজেল ইঞ্জিনের হাই প্রেসার পাম্পের প্রেসার ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা যায়। এই পাম্প টেস্টারটি বৈদ্যুতিক মোটর দ্বারা চালিত হয়। পাম্পকে হোল্ড করার জন্য একটি চাক আছে।

২০। এয়ার কম্প্রেসর :

এর সাহায্যে মুক্ত বাতাসকে একটি আবদ্ধ পাত্রে জমা করে রাখা যায়। উক্ত জমাকৃত বাতাস প্রয়োজন মত বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। এটি বৈদ্যুতিক মোটর দ্বারা চালিত হয়।

২১। কম্প্রেশন টেস্টার :

এই টেস্টারের সাহায্যে ইঞ্জিন সিলিন্ডারের কম্প্রেশন প্রেসার ঠিক আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।

২২। টায়ার প্রেসার গেজ :

গাড়ীর টায়ারের প্রেসার নির্ণয় করার জন্য এই প্রেসার গেজ ব্যবহার করা হয়। এটি দেখতে অনেকটা ঝরনা কলমের মত।

২৩। আরবর প্রেস :

হাতুড়ির আঘাত দ্বারা অনেক কাজ বা যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু আরবর প্রেসের সাহায্যে তা অতি সহজেই সম্পাদন করা যায়। বুশ এবং বিয়ারিং ইত্যাদি ফিটিং কার্যে এর সাহায্য নেওয়া যায়। কোন ধাতু বাঁকা এবং সরল করার জন্যেও এর সাহায্য নেওয়া হয়।

২৪। বৈদ্যুতিক হ্যান্ড ড্রিল :

কোন ধাতু বা কোন যন্ত্রাদি ছিদ্র করার জন্যে হস্তচালিত বৈদ্যুতিক ড্রিল ব্যবহার করা হয়। এর একটি বিশেষ সুবিধা হচ্ছে যে এটি ইচ্ছামত যে কোন স্থানে নেওয়া যায় এবং ইচ্ছামত কার্য সম্পাদন করা যায়।

২৫। বেঞ্চ ভাইস :

কোন যন্ত্রকে শক্ত করে ধরে খোলা বা বন্ধ করা প্রয়োজন হলে তা ডাইসে বেঁধে সম্পাদন করা যায়। ডাইসের দুটি ‘জ’ (jaw) আছে। একটি ‘জ’ স্থির এং অপরটি নড়াচড়া করে। যে ‘জ’টি নড়াচড়া করে তা একটি হ্যান্ডেলের সাহায্যে ঘুরানো হয়।

২৬। হ্যাক-স :

কোন যন্ত্র বা ধাতুজাতীয় পদার্থকে হ্যাক-স দিয়ে অতি সহজে কাটা যায়।

২৭। লেদ মেশিন :

ইঞ্জিনের কোন যন্ত্র, যেমন—শ্যাফট টারনিং, কাটিং নারলিং বা থ্রেড কাঁটার জন্য অটোশপে লেদ মেশিনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

২৮। ব্রেক-সু কাটার বা এডজাস্টার :

গাড়ীর ব্রেক-সু লাইনার নষ্ট হয়ে গেলে তা ঠিকমত কেটে ব্রেক-সু এর সাথে ভালভাবে এডজাস্ট করে রিভিটিং ও ফিটিং করতে সহায়তা করে।

২৯। ব্রেকড্রাম লেদ :

এটি একটি বিশেষ ধরনের লেদ মেশিন। গাড়ীর ব্রেকড্রাম উঁচুনিচু হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হলে এই লেদ-এর সাহায্যে তা টারনিং করে কার্যোপযোগী করা হয়।

৩০। পাওয়ার গ্রীজগান :

গাড়ীর বিভিন্ন সংযোগ ভালভাবে গ্রীজিং সুসম্পন্ন করার জন্য পাওয়ার গ্রীজগান ব্যবহার করা হয়।

৩১। কারবুরেটর ক্লিনার :

পেট্রোল ইঞ্জিনে কারবুরেটর ব্যবহার করা হয়। এর সার্কিটগুলি খুবই সরু, সহজেই ময়লা পড়ে। এ কারণে বন্ধ হ’য়ে যেতে পারে। কারবুরেটর ক্লিনার একটি বাকেট টাইপ ক্লিনার-এর মধ্যে শক্তিশালী রসায়ন ব্যবহার করা হয়। কারবুরেটর যন্ত্রাদি খুলে রসায়ন দ্রবণের মধ্যে ভিজিয়ে রাখতে হয়। ফলে যন্ত্রাদির ময়লা দূরীভূত হয়। অনেক কর্মশালায় জেনারেটর, মোটর ইত্যাদি যন্ত্র এই ক্লিনারের সাহায্যে পরিষ্কার করা হয়। কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট হওয়ার পর এয়ার ব্লাস্ট দেওয়া হয়।

৩২। স্টীম ক্লিনার :

বড় বড় যন্ত্রাদি পরিষ্কার করে ধৌত করার জন্য স্টীম ক্লিনার ব্যবহার করা হয়। ছোট যন্ত্রাদি ধৌতকরণে এর কোন বিশেষ অবদান নেই। কেরোসিন বা গ্যাস বার্নারের সাহায্যে পানি তাপ দিয়ে স্টীম তৈরী করা হয়। স্টীমের সাথে সাবানের ফেনামিশ্রিত করা হয় যাতে যন্ত্রাদি ভালভাবে পরিষ্কার হয়। স্টীমকে দ্রুত চাপে যন্ত্রাদির উপর প্রবাহিত করানো হয়, ফলে যন্ত্রাদি সুন্দরভাবে ধৌত হয়।

৩৩। হট ট্যাঙ্ক :

হট ট্যাঙ্ক বা বয়লার ট্যাঙ্ক খুব বড় ধরনের ট্যাঙ্ক। এই ট্যাঙ্কের মধ্যে পরিষ্কার দ্রবণ তাপ দেওয়া হয়। এই দ্রবণ হচ্ছে কসটিক সোডা এবং পানির সংমিশ্রণ। এই দ্রবণের মধ্যে ইঞ্জিনের যন্ত্রাদি যেমন—সিলিন্ডার হেড, ইনটেক ম্যানিফোল্ড, সিলিন্ডার ব্লক, ট্রান্সমিশন কেস ইত্যাদি ভিজিয়ে রাখতে হয়।

৩৪। গ্লাসবিড ক্লিনার :

এই জাতীয় ক্লিনারে সঙ্কুচিত বাতাস ব্যবহার করা হয়। গ্লাসবিড বা গ্লাস পাউডারকে সজোরে যন্ত্রাদির উপর দিয়ে প্রবাহিত করা হয়। যার ফলে যন্ত্রাদি পরিষ্কার হয়। অন্যান্য ক্লিনারের চেয়ে এই জাতীয় ক্লিনার অনেক নিরাপদ। সেজন্য এই ক্লিনার স্কুল ও কলেজের কারখানায় বেশী ব্যবহৃত হয়। এই জাতীয় ক্লিনারের সাহায্যে তেল এবং কারবুরেটরের সব জায়গা পরিষ্কার করা যায় না।

৩৫। গ্রাইন্ডিং স্টোন :

এটি বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে চলে। মোটরের দুই প্রান্তে দুইটি স্টোন লাগানো থাকে। একটি মসৃণ এবং অন্যটি অমসৃণ। কোন যন্ত্র বা ধাতুর কোন বস্তু ঘর্ষণ প্রক্রিয়ায় ক্ষয় করার জন্য ইহা ব্যবহার করা হয়। এই স্টোন নিজে খুব কম ক্ষয় হয় কিন্তু অন্যকে বেশী ক্ষয় করে। এর দ্বারা কাজ করার সময় প্রথমে কর্কশ স্টোনটি ব্যবহার করা হয়, পরে মসৃণ স্টোন ব্যবহার করতে হয়।

৩৬। টেকোমিটার :

এই মিটার দ্বারা ইঞ্জিনের মোটর, জেনারেটর ইত্যাদির গতি নির্ণয় করা যায় (R. P. M)। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে কতবার ঘোরে তা নির্ণয় করা যায়।

৩৭। ইলেকট্রিক সোল্ডারিং আয়রণ :

এর সাহায্যে বৈদ্যুতিক তারের জয়েন্ট, ব্যাটারী টারমিনাল, লিংক্লিপ, ভাল্ব ইত্যাদি জোড়া লাগানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুতের তাপের সাহায্যে সোল্ডারিং করতে হয়। সোল্ডারিং করতে সোল্ডারিং দণ্ড ব্যবহার করা হয়।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন