মোটরযানসমূহের ড্রাইভারদের লাইসেন্স করা | মোটরযান আইন

মোটরযানসমূহের ড্রাইভারদের লাইসেন্স করা | মোটরযান আইন, কোন ব্যক্তি গাড়ি চালাইবার জন্য তাহাকে কর্তৃত্বদান করিয়া প্রদত্ত কার্যকর একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ না করিয়া সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন স্থানে কোন মোটরযান চালাইবে না|

Table of Contents

মোটরযানসমূহের ড্রাইভারদের লাইসেন্স করা | মোটরযান আইন

দ্বিতীয় অধ্যায়

মোটরযানসমূহের ড্রাইভারদের লাইসেন্স করা

 

মোটরযানসমূহের ড্রাইভারদের লাইসেন্স করা | মোটরযান আইন

 

 

ধারা-৩। ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবশ্যকতা :

(১) কোন ব্যক্তি গাড়ি চালাইবার জন্য তাহাকে কর্তৃত্বদান করিয়া প্রদত্ত কার্যকর একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ না করিয়া সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন স্থানে কোন মোটরযান চালাইবে না; এবং কোন ব্যক্তি তাহার ড্রাইভিং লাইসেন্সে নির্দিষ্টরূপে অদ্রূপ অধিকার প্রদত্ত না হইলে বেতনভোগী কর্মচারী হিসাবে কোন মোটরযান চালাইবে না অথবা কোন পরিবহনযান চালাইবে না।

(২) মোটরযান চালনার শিক্ষা গ্রহণরত কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে সকল শর্তসাপেক্ষ (১) উপধারা প্রযোজ্য হইবে না কর্তৃপক্ষ সেই সকল নিয়ম-কানুন নির্দিষ্ট করিয়া দিতে পারেন।

ধারা-৪। মোটরযান চালনা প্রসঙ্গে বয়ঃসীমা :

(১) আঠার বৎসরের কমবয়স্ক কোন ব্যক্তি সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন স্থানে কোন মোটরযান চালাইবে না।

(২) ১৫ ধারার বিধানসমূহ সাপেক্ষে বিশ বৎসরের কমবয়স্ক কোন পেশাদার ড্রাইভার হিসাবে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন স্থানে কোন মোটরযান চালাইবে না ।

ধারা-৪-ক শ্রমিকের নিয়োগপত্র :

(১) কোন পরিবহনযানের মালিক কোন শ্রমিককে ১৯৬১ সালের সড়ক পরিবহন শ্রমিক অধ্যাদেশ (১৯৬১ সনের ২৮নং)-এর বিধানাবলী অনুযায়ী ব্যতীত কোন নিয়োগপত্র প্রদান করা ব্যতীত চাকুরীতে নিযুক্ত করিবেন না।

(২) কোন শ্রমিক (১) উপ-ধারার অধীনে ইস্যুকৃত নিয়োগপত্র না পাইয়া কোন পরিবহনযানে কাজ করিবেন না।

ধারা-৫। উপরোক্ত ৩ ও ৪ ধারা লংঘনের দরুন মোটরযানের মালিকগণের দায়িত্ব

কোন মোটরযানের মালিক বা ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৩ ধারা বা ৪ ধারার বিধানসমূহ পূরণ করে না এইরূপ কোন ব্যক্তিকে মোটরযান চালাইতে দিবে না বা চালাইবার অনুমতি দিবে না।

ধারা ৬। ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ সম্পর্কে বিধিনিষেধ:

(১) সংশ্লিষ্ট সময়ে কার্যকরী কোন ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী কোন ব্যক্তি ১৫ ধারার বিধান অনুসারে প্রদত্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত কোন লাইসেন্স, অথবা ১০৭ ধারার অধীনে প্রণীত বিধিমালা অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মোটরযান চালাইবার কর্তৃত্বদান করিয়া প্রদত্ত কোন দলিল ব্যতীত অন্য কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ করিবে না।

(২) ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী কোন ব্যক্তি তাহার লাইসেন্স অপর কোন ব্যক্তিকে ব্যবহার করিবার অনুমতি দিবে না।

(৩) কোন ব্যক্তি পেশাদারী বা অপেশাদারী ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইবার যোগ্য বিবেচিত হইলে ৭ ধারার (১) উপধারা অনুসারে এখতিয়ারসম্পন্ন লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তাহাকে অনুরূপ লাইসেন্স দানের ব্যাপারে অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ব্যক্তি যে সকল শ্রেণীর যানবাহন চালাইবার কর্তৃত্ব লাভ করিয়াছে তাহার সহিত আরও অন্যান্য যানবাহন যোগ করিবার ব্যাপারে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে কোন বাধা সৃষ্টি হইবে না।

ধারা- ৭। ড্রাইভিং লাইসেন্স মঞ্জুর করা:

(১) যে ব্যক্তি ৪ ধারা অনুসারে মোটরযান চালাইবার অযোগ্য নহে এবং যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণের বা পাইবার অযোগ্য নহে এইরূপ যেকোন ব্যক্তি যে এলাকায় সাধারণত বসবাস করে বা ব্যবসায় পরিচালনা করে, অথবা যে স্কুলে বা প্রতিষ্ঠানে মোটরযান চালনা শিক্ষা গ্রহণ করিতেছে বা করিয়াছে সেই স্কুল বা প্রতিষ্ঠান যে এলাকায় অবস্থিত, অথবা বেতনভোগী কর্মচারী হিসাবে গাড়ি চালাইবার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন হইলে নিয়োগকর্তা যে এলাকায় বসবাস করে বা ব্যবসায় পরিচালনা করে, সেই এলাকার উপর এখতিয়ারসম্পন্ন লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের নিকট লাইসেন্স প্রদানের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) পেশাদার ড্রাইভার হিসাবে মোটরযান চালাইবার উদ্দেশ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য (১) উপধারা অনুসারে প্রত্যেকটি আবেদন প্রথম তফসিলে প্রদত্ত ‘ক’ ফরমে এবং আপেশাদার ড্রাইভার হিসাবে গাড়ি চালাইবার উদ্দেশ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন উক্ত তফসিলে প্রদত্ত ‘খ’ ফরমে করিতে হইবে, আবেদনপত্রের দুই স্থানে আবেদনকারীর স্বাক্ষর বা টিপসহি দিতে হইবে, এবং ফরমে উল্লিখিত প্রয়োজনীয় সকল তথ্য আবেদন পত্রে থাকিতে হইবে।

(৩) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রত্যেকটি আবেদনপত্রের সহিত প্রথম তফসিলে প্রদত্ত ‘গ’ ফরমে একজন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের স্বাক্ষরিত একটি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দাখিল করিতে হইবে।

(৪) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রত্যেকটি আবেদনপত্রের সহিত আবেদনকারীর সাম্প্রতিক ফটোগ্রাফের স্পষ্ট তিনটি কপি দাখিল করিতে হইবে।

(৫) আবেদনপত্র অথবা (৩) উপধারায় উল্লেখিত মেডিক্যাল সার্টিফিকেট হইতে যদি প্রতীয়মান হয় যে, আবেদনকারী দ্বিতীয় তফসিলে উল্লেখিত কোন রোগ বা অসুস্থতায় ভুগিতেছে যাহার দরুন সেই ব্যক্তি যে শ্রেণীর মোটর চালাইবার উদ্দেশ্যে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করিয়াছে ড্রাইভিং লাইসেন্স সেই শ্রেণীর মোটরযান চালনার জন্য তাহাকে কর্তৃত্ব দেওয়া হইলেও তদনুসারে সে মোটরযান চালনা করিলে তাহা জনসাধারণের বা যাত্রীদের জন্য বিপদ সৃষ্টি করিবে, তবে লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স দিতে অস্বীকার করিবেন :

তবে শর্ত এই যে—

(ক) কেবলমাত্র পঙ্গুলোকের বাহন চালনা করিবার জন্য আবেদনকারীকে লাইসেন্স দেওয়া যাইবে, যদি লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে আবেদনকারী অনুরূপ বাহন চালাইবার যোগ্য;

(খ) আবেদনকারী যেক্ষেত্রে দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত রোগ বা অসুস্থতায় ভুগিতেছে সেইরূপ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে যেকোন মোটরযান বা বিশেষ ধরনের বা আকৃতির মোটরযান চালাইবার ব্যাপারে তাহার উপযুক্ততা বা যোগ্যতা পরীক্ষার দাবি করিতে পারে এবং অনুরূপ পরীক্ষায় যদি সে লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি অনুসারে পাস করে এবং অন্য কোনরূপভাবে অযোগ্য না হয়, তবে লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সে উল্লিখিত প্রকার মোটরযান চালাইবার জন্য তাহাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করিবে।

(৬) কোন আবেদনকারী তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত গাড়ি চালনার যোগ্যতার পরীক্ষার লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি অনুসারে পাস না করিলে তাহাকে লাইসেন্স দেওয়া হইবে না।

তবে শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে কোন মোটর সাইকেল বা মোটর কার চালাইবার উদ্দেশ্যে অপেশাদারী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত পরীক্ষার ১ম অংশ হইতে আবেদনকারীকে রেহাই দান করিবেন, যদি লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে

(ক) আবেদনকারী ইতিপূর্বে লাইসেন্সধারী ছিল এবং তাহার লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার তারিখ ও আবেদন করিবার তারিখের মধ্যবর্তী সময় তিন বৎসরের অধিক নহে; অথবা—

(খ) আবেদনকারী বাংলাদেশের বাহিরের কোন দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রদত্ত একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ করিতেছে :

আরও শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে আবেদনকারী বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর চাকুরীতে নিযুক্ত আছে এবং তাহার একটি বৈধ আর্মী ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে এবং তাহার আবেদনের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী তিন বৎসর যাবৎ সে প্রকৃতপক্ষে এক বা একাধিক শ্রেণীর মোটর গাড়ি চালনা করিতেছে, সেইক্ষেত্রে লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে তাহাকে তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত পরীক্ষা হইতে রেহাই দিবে এবং সে যে এক বা একাধিক শ্রেণীর মোটরযান চালনা করিতেছে সেই শ্রেণীর মোটরযানের জন্য লাইসেন্স দান করিবে।

(৭) কোন আবেদনকারী যে শ্রেণীর মোটরযান চালাইবার লাইসেন্সের জন্য করিয়াছে, সেই শ্রেণীর মোটরযান চালাইবার কর্তৃত্ব সম্বলিত একটি শিক্ষার্থীর ড্রাইভিং লাইসেন্স তাহার পরীক্ষার তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কমপক্ষে তিন মাস যাবৎ ধারণ করিয়া না থাকিলে অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রদত্ত একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ করিয়া না থাকিলে গাড়ি চালনার যোগ্যতার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হইবার অধিকারী হইবে না।

(৮) আবেদনে উল্লিখিত শ্রেণীর একটি গাড়িতে গাড়ি চালনার যোগ্যতার পরীক্ষা গ্রহণ করা হইবে এবং পরীক্ষার ১ম অংশের উদ্দেশ্যে—

(ক) যে ব্যক্তি কোন ভারী মোটরযান চালনার পরীক্ষায় পাস করিবে, সে মোটর সাইকেল, মোটর-ক্যাব, রিকশা, রোড রোলার, ট্রাক্টর, লোকোমটিভ, স্ক্র্যাপার, গ্রেডার, ক্রেন বা বুলডজার ছাড়া অন্যান্য মাঝারী বা হালকা মোটরযান চালনার পরীক্ষাতেও পাস করিয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে;

(খ) যে ব্যক্তি মাঝারী মোটরযান চালনার পরীক্ষায় পাস করিবে, সে মোটর সাইকেল, মোটর-ক্যাব, রিকশা, রোড রোলার, ট্রাক্টর, লোকোমটিভ, স্ক্র্যাপার, গ্রেডার, ক্রেন বা বুলডজার ছাড়া অন্যান্য হালকা মোটরযান চালনার পরীক্ষাতেও পাস করিয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(৯) যখন কোন উপযুক্ত লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের নিকট যথাবিহিতরূপে আবেদন করা হইয়াছে এবং আবেদনকারী তাহার দৈহিক উপযুক্ততা ও গাড়ি চালনার যোগ্যতা সম্পর্কে উক্ত কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করিয়াছে এবং কর্তৃপক্ষকে একশত টাকা ফী প্রদান করিয়াছে, তখন লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স মঞ্জুর করিবে, যদি না আবেদনকারী ধারা অনুসারে মোটরযান চালাইবার অযোগ্য হয়, অথবা সংশ্লিষ্ট সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ বা গ্রহণ করিবার অযোগ্য হয়।

তবে শর্ত এই যে, কোন লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ যথোপযুক্ত লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও মোটর সাইকেল বা মোটর কার চালনার জন্য পেশাদারী ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া অন্য প্রকার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবে, যদি সেই লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী যথোপযুক্ত লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে অপারগ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে :

আরও শর্ত এই যে, লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে নূতন ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করিবে না যদি সেই আবেদনকারী এই অধ্যাদেশ অনুসারে পূর্বে প্রদত্ত কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ করিয়া থাকে এবং যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হওয়া না যায় যে, তাহার পূর্বেকার ড্রাইভিং লাইসেন্সের দ্বিতীয় কপি সংগ্রহ করিতে তাহার অপারগতার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে।

ধারা-৮। ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফরম ও বিষয়বস্তু :

(১) ১৫ ধারা অনুসারে প্রদত্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত প্রত্যেকটি পেশাদারী ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রথম তফসিলের ‘ঘ’ ফরমে হইবে এবং ১৫ ধারা অনুসারে প্রদত্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত প্রত্যেকটি অপেশাদারী ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রথম তফসিলের ‘ঙ’ ফরমে হইবে এবং প্রত্যেক ড্রাইভিং লাইসেন্সে আবেদনকারীর স্বাক্ষর বা টিপসহি এবং ৭ ধারার (৪) উপধারায় উল্লিখিত ফটোগ্রাফ সংযুক্ত থাকিবে।

(২) কর্তৃপক্ষ ২২ ধারা অনুসারে প্রণীত প্রবিধান দ্বারা পেশাদারী ও অপেশাদারী ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি নির্ধারণ করিয়া দিতে পারেন।

ধারা-৯। ড্রাইভিং লাইসেন্স সংযোজন :

(১) এই অধ্যায় অনুসারে প্রদত্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী কোন ব্যক্তি যে সংশ্লিষ্ট সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ করিবার বা পাইবার অযোগ্য নহে, তাহার

ড্রাইভিং লাইসেন্সে আরও এক শ্রেণীর মোটরযান সংযোজিত করিবার জন্য প্রথম “তফসিলের ‘চ’ ফরমে সে যে এলাকায় সাধারণত বসবাস করে, বা ব্যবসায় করে অথবা বেতনভোগী কর্মচারী হিসাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন হইলে তাহার নিয়োগকর্তা যে এলাকার বসবাস করে বা ব্যবসায় করে, সেই এলাকার উপর এখতিয়ারসম্পন্ন লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারে।

(২) এই ধারা অনুসারে আবেদনের ক্ষেত্রে ৭ ধারার (৩) ও (৪) উপধারা ব্যতীত অন্যান্য বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন আবেদনকারীর ড্রাইভিং লাইসেন্সে যে শ্রেণীর মোটরযান সংযোজিত করিবার প্রার্থনা করা হইয়াছে, সেই শ্রেণীর গাড়ি চালাইবার উদ্দেশ্যে উক্ত ধারা অনুসারে আবেদনপত্রটি দাখিল করা হইয়াছে।

(৩) এই ধারা অনুসারে ড্রাইভিং লাইসেন্সে কিছু সংযোজন করিবার জন্য গাড়ি চালনার যোগ্যতা পরীক্ষার ফী এবং ৭ ধারার (১) উপধারা অনুসারে বিহিত ফী’র অর্ধেক পরিমাণ ফী ছাড়া আর কোন ফী দাবি করা হইবে না।

ধারা- ১০। ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতার আওতা :

(১) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক (৩) উপধারা অনুসারে প্রণীত কোন প্রবিধান সাপেক্ষে পূর্ববর্তী ধারাসমূহ অনুসারে প্রদত্ত একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স বাংলাদেশের সর্বত্র কার্যকরী হইবে।

(২) মোটরযান চলাচল সম্পর্কিত ১৯২৬ সালের ২৪শে এপ্রিল তারিখে প্যারিসে সমাপ্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসারে বা পরবর্তী কোন কনভেনশনে উহার সংশোধনী অনুসারে প্রদত্ত আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিটের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১০৭ ধারা অনুসারে প্রণীত কোন প্রবিধানসাপেক্ষে, কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রদত্ত মোটরযান চালাইবার ড্রাইভিং লাইসেন্স এই আইন অনুসারে প্রদত্ত একটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতই বাংলাদেশের সর্বত্র কার্যকরী হইবে :

তবে শর্ত এই যে, উক্তরূপ কোন ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ বা গ্রহণ করিবার জন্য এই আইনের কোন বিধান অনুসারে অযোগ্য বিবেচিত হইবে না ।

(৩) কর্তৃপক্ষ ২ ধারা অনুসারে প্রণীত প্রবিধান দ্বারা —–

(ক) বিধান করিতে পারিবেন যে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ড্রাইভার কর্তৃক পরিবহনযান চালনার অধিকার সম্পর্কিত নির্দিষ্ট নিয়ম কেবলমাত্র পঞ্চম অধ্যায় অনুসারে গঠিত আঞ্চলিক পরিবহন কর্তৃপক্ষের দ্বারা বা উহার কর্তৃত্বাধীনে সন্নিবেশিত করা যাইবে;

(খ) উপরোক্ত কমিটির সমীপে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনপত্র দাখিল করিবার বিষয় নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন; অথবা

(গ) কোন ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী কর্তৃক পরিবহনযান চালনার অধিকারের প্রশ্নে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের বৈধতার শর্ত হিসাবে নির্দেশ দান করিতে পারিবেন যে, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কমিটি দ্বারা, লাইসেন্সটি প্রতি স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।

 

মোটরযানসমূহের ড্রাইভারদের লাইসেন্স করা | মোটরযান আইন

 

ধারা-১১। ড্রাইভিং লাইসেন্সসমূহের কার্যকারিতার মেয়াদ:

এই আইন অনুসারে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন করা হইয়াছে তাহা, এই আইন বিহিত ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলকরণের এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ বা গ্রহণের ব্যাপারে ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী বিধান সাপেক্ষে, নবায়ন না করিয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সটি প্রদত্ত হইবার তারিখ হইতে বার মাস কাল কার্যকরী থাকিবে, অথবা যেক্ষেত্রে ১২ ধারা অনুসারে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করা হইয়াছে সেইক্ষেত্রে নবায়নের তারিখ হইতে বার মাস কাল কার্যকরী থাকিবে এবং কার্যকারিতার মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর পনের দিন। পর্যন্ত উহা কার্যকরী বলিয়া বিবেচিত হইতে থাকিবে :

তবে শর্ত এই যে, লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের যদি এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, আবেদনকারী বিদেশে চাকুরীতে নিযুক্ত হইয়াছে বা বিদেশে চাকুরী করিবার চুক্তি স্বাক্ষর করিয়াছে, তবে কর্তৃপক্ষ ১২ ধারার (৪) উপধারায় প্রত্যেক বৎসরের জন্য বর্ণিত হারে ফী গ্রহণ করিয়া একেবারে অনধিক তিন বৎসরের জন্য একটি পেশাদারী ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করিতে পারিবেন :

আরও শর্ত এই যে, আবেদনকারী চাহিলে একটি অপেশাদারী ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ১২ ধারার (৪) উপধারায় বর্ণিত হারে ফী গ্রহণ করিয়া একবারে তিন বৎসরের জন্য নবায়ন করা যাইবে এইরূপ শর্তসাপেক্ষে যে, লাইসেন্সধারী ব্যাধি বা অপারগতার কারণে গাড়ি চালাইবার অযোগ্য হইয়া পড়িলে পনের দিনের মধ্যে যে লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারাধীন এলাকায় যে বসবাস করে তাহার নিকট অথবা যে কর্তৃপক্ষ উহা প্রদান করিয়াছিল তাহার নিকট লাইসেন্সটি সমর্পণ করিবে।

ধারা-১২। ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন:

(১) কোন লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হইলে কর্তৃপক্ষ এই আইনের বিধান অনুসারে প্রদত্ত একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স উহার মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার তারিখ হইতে নবায়ন করিতে পারিবে।

তবে শর্ত এই যে, যেইক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পনের দিন অপেক্ষা অধিক সময় পর উহা নবায়নের আবেদন করা হয়, সেইক্ষেত্রে উহা নবায়নের তারিখ হইতে নবায়ন করা হইবে।

আরও শর্ত এই যে, কোন পেশাদারী ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রথম তফসিলে প্রদত্ত ‘গ’ ফরমে একজন রেজিস্ট্রিকৃত চিকিৎসকের স্বাক্ষরযুক্ত নূতন একটি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দাখিল করিতে হইবে, এবং এইরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে ৭ ধারার (৫) উপধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে ।

(২) প্রত্যেক পেশাদারী ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীকে তাহার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদত্ত হইবার তারিখ হইতে প্রতি দিন বৎসর পরে, অথবা তৃতীয় বার লাইসেন্স নবায়নের সময়, এই দুইয়ের মধ্যে যেটি পূর্বে ঘটে, তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হইতে হইবে, এবং যদি সে নির্ধারিত পরীক্ষায় পাস করিতে না পারে, তবে তাহার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে। উক্তরূপ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী অবশ্য প্রতি তিন মাস পর পর একবার গাড়ি চালনার যোগ্যতা সম্পর্কিত পরীক্ষার ফী প্রত্যেকবারের জন্য প্রদান করিলে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হইতে পারিবে।

(৩) ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের দরখাস্ত প্রথম তফসিলে বর্ণিত ‘ছ’ ফরমে করিতে হইবে এবং ফরমে নির্দেশিত ঘোষণা সম্বলিত হইতে হইবে।

তবে শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে আবেদনকারী উক্ত ঘোষণায় স্বাক্ষর করিবে না বা করিতে অপারগ হইবে, সেইক্ষেত্রে ৭ ধারার (৫) উপধারা প্রযোজ্য হইবে।

(৪) যেক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আবেদন লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর পনের দিন অতিবাহিত হইবার পূর্বেই করা হয়, অথবা অনধিক পনের দিন পরে করা হয়, সেইক্ষেত্রে মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার তারিখ হইতে প্রতি বার মাসের জন্য নবায়ন ফী পঞ্চাশ টাকা দিতে হইবে।

(৫) যেক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পনের দিনেরও অধিক পরে নবায়নের আবেদন করা হয় সেইক্ষেত্রে মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার তারিখ হইতে প্রতি বার মাসের জন্য নবায়ন ফী সত্তর টাকা দিতে হইবেঃ

তবে শর্ত এই যে, লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করিতে না পারার উপযুক্ত কারণ ছিল, তবে সেইক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ (৪) উপধারায় উল্লিখিত নবায়ন ফী গ্রহণ করিতে পারিবেন

আরও শর্ত এই যে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের কার্যকারিতা শেষ হইবার তিন বৎসরেরও অধিক পরে নবায়নের আবেদন করা হয়, তবে আবেদনকারী লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি মোতাবেক তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত পদ্ধতিতে গাড়ি চালনার যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়া পাস না করিলে কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স নবায়ন করিতে অস্বীকার করিতে পারিবে।

(৬) যেইক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করে নাই, সেইক্ষেত্রে নবায়নকারী কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সটি নবায়ন করিবার বিষয় লাইসেন্স দানকারী কর্তৃপক্ষকে জানাইবে।

ধারা-১৩। ব্যাধি বা অপারগতার কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাহার :

পূর্ববর্তী ধারাসমূহে যাহাই বিহিত হইয়া থাকুক না কেন, লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের যদি এইরূপ বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ব্যক্তি কোন ব্যাধি বা অপারগতার দরুন মোটরযান চালাইবার অযোগ্য হইয়া পড়িয়াছে, তবে লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ যেকোন সময় তাহার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাহার করিতে পারিবে, অথবা সেই ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ অব্যাহত রাখিবার শর্ত হিসাবে চতুর্থ তফসিলে প্রদত্ত ‘গ’ ফরমে ৭ ধারার (৩) উপধারার প্রয়োজন অনুসারে স্বাক্ষরিত নূতন একটি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দাখিল করিবার জন্য সেই ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারিবে; যেইক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাহারকারী কর্তৃপক্ষ সেই লাইসেন্স প্রদান করে নাই, সেইক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রত্যাহারকারী কর্তৃপক্ষ উহা প্রত্যাহারের বিষয় লাইসেন্স দানকারী কর্তৃপক্ষকে জানাইবে।

ধারা-১৪। ড্রাইভিং লাইসেন্স দানে অস্বীকৃতি বা ড্রাইভিং লাইসেন্স

প্রত্যাহারের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল :

(১) যেক্ষেত্রে কোন লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করিতে বা নবায়ন করিতে অস্বীকার করে বা কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাহার করে, অথবা কোন ড্রাইভিং লাইসেন্সে নুতন কোন শ্রেণীর মোটরযান সংযোজিত করিতে অস্বীকার করে, অথবা ১০ ধারার (৩) উপধারায় উল্লিখিত বিবরণ নান বা প্রতি স্বাক্ষর দান করিতে অস্বীকার করে, সেইক্ষেত্রে আবেদনকারী বা লাইসেন্সধারীকে অনুরূপ অস্বীকৃতি বা প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করিয়া লিখিতভাবে জানাইতে হইবে।

(২) কোন ব্যক্তি (১) উপধারা অনুসারের প্রদত্ত কোন আদেশের ফলে ক্ষুব্ধ হইলে আদেশটি তাহার উপর জারি হইবার পর ত্রিশ দিনের মধ্যে নির্ধারিত

কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল করিতে পারিবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তি এবং আদেশদানকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পেশ করিবার সুযোগ দানের পর আপীল নিষ্পত্তি করিবে এবং আপীল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত আদেশদানকারী কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে।

(৩) আপীল কর্তৃপক্ষ শর্তাধীনে বা শর্তবিহীনরূপে অনারূপ নির্দেশ দান না করিলে (১) উপধারা অনুসারে দায়েরকৃত আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের আদেশ বলবৎ থাকিবে।

ধারা-১৫। প্রতিরক্ষা বিভাগের মালিকানাধীন মোটরযান চালাইবার ড্রাইভিং লাইসেন্স:

(১) যে সকল মোটরযান প্রতিরক্ষা বিভাগের সম্পত্তি অথবা সংশ্লিষ্ট সময়ে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং কেবলমাত্র প্রতিরক্ষা বিভাগের এমন প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয় যাহা কোন বাণিজ্যিক সংস্থার সহিত সম্পর্কহীন, সেইগুলি চালাইবার জন্য চতুর্থ তফসীলের ‘ক’ অংশে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাহাদের আঠার বৎসর বয়স পূর্ণ হইয়াছে এমন ব্যক্তিদিগকে সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবেন।

(২) এই ধারা অনুসারে প্রদত্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সে লাইসেন্সধারী যেই সকল শ্রেণীর মোটরযান চালাইবার অধিকারী হইবে এবং যতদিন পর্যন্ত এই অধিকার বলবৎ থাকিবে, তাহা নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হইবে।

(৩) এই ধারা অনুসারে প্রদত্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স দ্বারা লাইসেন্সধারী এমন কোন মোটরযান চালাইবার অধিকারপ্রাপ্ত হইবে না, যাহা প্রতিরক্ষা বিভাগের সম্পত্তি নহে বা সংশ্লিষ্ট সময়ে যাহা কেবলমাত্র প্রতিরক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রাণাধীন নহে।

(৪) এই ধারা অনুসারে কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ, যে ব্যক্তিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হইয়াছে তাহার সম্পর্কে সরকার যেকোন সময় যেকোন তথ্য চাহিলে তাহা সরবরাহ করিবে।

ধারা-১৬। ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণে অযোগ্য ঘোষণা করিতে লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা :

(১) কোন ব্যক্তিকে বক্তব্য পেশ করিবার সুযোগ দানের পর লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, সেই ব্যক্তি—

ক) একজন অভ্যাসগত অপরাধী বা অভ্যাসগত মদ্যপায়ী, অথবা

(খ) কোন আমলগ্রাহ্য অপরাধ সংঘটনের জন্য কোন মোটরযান ব্যবহার করিয়াছে বা করিতেছে, অথবা

(গ) মোটরযান চালক হিসাবে তাহার পূর্ববর্তী আচরণ দ্বারা প্রমাণ করিয়াছে যে তাহার মোটর চালনা জনসাধারণের পক্ষে বিপদসংকুল, অথবা

(ঘ) পঞ্চম তফসিলে বর্ণিত কোন অপরাধ করিয়াছে, তবে কর্তৃপক্ষ কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সেই ব্যক্তিকে কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স

ধারণের বা গ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করিয়া আদেশ দান করিতে পারিবে।

(২) উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদত্ত হইবার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী হইলে এবং তাহার লাইসেন্স ইতিপূর্বেই সমর্পিত হইয়া না থাকিলে সে অবিলম্বে তাহা আদেশদানকারী লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের নিকট সমর্পণ করিবে এবং লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ

(ক) সংশ্লিষ্ট ড্রাইভিং লাইসেন্সটি এই আইন অনুসারে প্রদত্ত হইয়া থাকিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অযোগ্যতার অবসান বা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সটি সংরক্ষণ করিবে;

(খ) সংশ্লিষ্ট ড্রাইভিং লাইসেন্সটি এই আইন অনুসারে প্রদত্ত না হইয়া থাকিলে অযোগ্যতার বিষয়টি উক্ত লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করিয়া যে কর্তৃপক্ষ দ্বারা উহা প্রদত্ত হইয়াছিল, তাহার নিকট প্রেরণ করিবে।

(৩) এই ধারা অনুসারে কোন লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত আদেশের দরুন ক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি আদেশপ্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল করিতে পারিবে, এবং সংশ্লিষ্ট আপীল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিবে, কোন পক্ষ চাহিলে তাহার বক্তব্য শ্রবণ করিব এবং বিষয়টি সম্পর্কে যথোপযুক্ত তদন্ত অনুষ্ঠান করিবে। অনুরূপ কোন আপীল কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত হইবে।

ধারা-১৭। পরিবহন কমিটির অযোগ্য ঘোষণা করিবার ক্ষমতা ঃ

(১) পঞ্চম অধ্যায় অনুসারে গঠিত যেকোন পরিবহন কমিটি কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া কোন নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে যেকোন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে কোন পরিবহনযান চালনার বা নির্দিষ্ট বিবরণের কোন পরিবহনযান চালনার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ বা গ্রহণের ব্যাপারে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করিতে পারিবে।

(২) কোন পরিবহন কমিটির (১) উপধারা অনুসারে প্রদত্ত আদেশের দরুন ক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি আদেশ সম্পর্কে জ্ঞাত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করিতে পারিবে। :

ধারা-১৮ । আদালত কর্তৃক অযোগ্য ঘোষণার ক্ষমতা:

(১) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি এই আইন অনুসারে কোন অপরাধের দরুন, অথবা যে অপরাধ সংঘটনে কোন মোটরযান ব্যবহৃত হইয়াছে সেইরূপ কোন অপরাধের দরুন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়, সেই ব্যক্তি যে আদালত কর্তৃক দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হইয়াছে, সেই আদালত এই ধারার বিধানসাপেক্ষে আইনে অনুমোদিত অন্য কোন দণ্ডদান ব্যতীত সেই দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ করিবার জন্য বা কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর বা বিবরণের গাড়ি চালাইবার জন্য লাইসেন্স ধারণের অযোগ্য ঘোষণা করিতে পারিবেন।

(২) আদালত ১৪৩ ধারা অনুসারে দণ্ডনীয় কোন অপরাধের দরুন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপরাধীকে অযোগ্য ঘোষণা করিবেন এবং অনুরূপ অযোগ্যতার মেয়াদ কমপক্ষে এক বৎসর হইবে।

(৩) আদালত ১০২ ধারার (১) উপধারার (গ) অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ বা ১০৪ ধারার বিধানসমূহ লংঘন করিয়া কোন অপরাধের দরুন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অযোগ্য ঘোষণা করিবেন এবং অনুরূপ অযোগ্যতার মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস হইবে।

(৪) আদালত বিশেষ কোন কারণে অন্যরূপ আদেশ দেওয়া প্রয়োজন মনে না করিলে এবং কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া তদ্রূপ আদেশ দান না করিলে নিম্নলিখিত অপরাধীদিগকে অযোগ্য ঘোষণা করিবেন –

(ক) যে একবার ১৪৩ ধারা অনুসারে অপরাধের দরুন দণ্ডিত হইবার পর পুনরায় সেই ধারা অনুসারে অপরাধের দরুন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়;

(খ) যে ১৪৮ ধারা অনুসারে দণ্ডনীয় কোন অপরাধের দরুন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়; অথবা

(গ) যে ১৫২ ধারা অনুসারে দণ্ডনীয় কোন অপরাধের দরুন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হয় :

তবে শর্ত এই যে, উপরোক্ত (ক) ও (খ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত ক্ষেত্রে অযোগ্যতার মেয়াদ কমপক্ষে দুই বৎসর এবং (গ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত ক্ষেত্রে অযোগ্যতার মেয়াদ কমপক্ষে এক বৎসর হইবে।

(৫) আদালত ১৪৩ ধারা অনুসারে দণ্ডনীয় অপরাধের দরুন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অযোগ্য ঘোষণা করিবার সময় নির্দেশ দিতে পারেন যে, সেই ব্যক্তি তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত যোগ্যতার পরীক্ষায় ইতিপূর্বে পাস করিয়া থাকুক বা না থাকুক, পরবর্তীকালে সে পুনরায় লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি মোতাবেক উক্ত পরীক্ষায় পাস না করা পর্যন্ত তাহার অযোগ্যতা বহাল থাকিবে।

(৬) যে আদালতে (১) উপধারায় বর্ণিত অপরাধের দরুন প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা চলে, সেই আদালত নিম্ন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন অযোগ্যতার আদেশ রদ বা পরিবর্তন করিতে পারেন, এবং যে আদালতে সাধারণত নিম্নবর্তী কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা চলে, সেই আদালতে সংশ্লিষ্ট যে দণ্ডাদেশের দরুন প্রদত্ত অযোগ্যতার আদেশের বিরুদ্ধে যদিও আপীল করা চলে না, তথাপি সেই আদালত উক্তরূপ কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অযোগ্যতার আদেশ রদ বা পরিবর্তন করিতে পারেন।

ধারা-১৯। অযোগ্যতার আদেশের ফল :

(১) কোন ব্যক্তি সম্পর্কে অযোগ্যতার আদেশ প্রদত্ত হইলে সে আদেশে বর্ণিত প্রকারে ও মেয়াদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ বা গ্রহণ করিতে পারিবে না, এবং আদেশ ও প্রদত্ত হইবার তারিখ যদি সে কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ করিয়া থাকে তবে তাহা উক্ত মেয়াদের জন্য অকার্যকরী হইয়া পড়িবে।

(২) ১৮ ধারা অনুসারে প্রদত্ত অযোগ্যতার আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হইয়া থাকিলে অথবা যে দণ্ডাজ্ঞার ফলে অযোগ্যতার আদেশটি প্রদত্ত হইয়াছে তাহার বিরুদ্ধে আপীল করা হইয়া থাকিলে আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অযোগ্যতার আদেশটির কার্যকারিতা স্থগিত বা মূলতৰী থাকিবে না, যদি না আপীল আদালত তদ্রূপ নির্দেশ দান করেন।

(৩) কোন ব্যক্তির সম্পর্কে অযোগ্যতার আদেশ প্রদত্ত হইয়া থাকিলে আদেশের তারিখ হইতে ছয় মাস অতিক্রান্ত হইবার পর সেই ব্যক্তি তাহার অযোগ্যতার আদেশ প্রত্যাহারের জন্য আদালতের নিকট বা আদেশদানকারী কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারিবে; এবং সেই আদালত বা কর্তৃপক্ষ সমস্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করিয়া অযোগ্যতার আদেশ প্রত্যাহার বা পরিবর্তন করিতে পারিবেন :

তবে শর্ত এ যে, এই ধারা অনুসারে যেক্ষেত্রে একবার আবেদন করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে আরও তিন মাস সময় অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই ধারা অনুসারে দ্বিতীয় কোন আবেদনপত্র বিবেচনা গ্রাহ্য হইবে না ।

(১) কোন আদালত বা কর্তৃপক্ষ অযোগ্যতার আদেশ দান করিবার সময় অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তির কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকিলে উহার পৃষ্ঠে অযোগ্যতার আদেশের বিবরণ এবং যে অপরাধের দরুন দণ্ডাদেশ হইবার ফলে অযোগ্যতার আদেশটি প্রদত্ত হইয়াছে, উহার বিবরণ লিপিবদ্ধ করিবেন বা করাইবেন; এবং ১৯ ধারার (৩) উপধারা অনুসারে অযোগ্যতার আদেশ প্রত্যাহার বা পরিবর্তন করা হইলে তাহারও অনুরূপভাবে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

(২) কোন ব্যক্তি যে আদালত কর্তৃক পঞ্চম তফসিলের ‘ক’ ও ‘খ’ অংশে বর্ণিত কোন অপরাধের দরুন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়, তাহার ফলে কোন অযোগ্যতার আদেশ প্রদত্ত হউক বা না হউক, সেই আদালত উক্ত ব্যক্তির কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকিলে তাহার পৃষ্ঠে দণ্ডাদেশের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিবেন বা করাইবেন।

(৩) কোন ব্যক্তি পঞ্চম তফসিলে বর্ণিত কোন অপরাধের দরুন অভিযুক্ত হইলে আদালতে উপস্থিত হইবার সময় তাহার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি তাহার দখলে থাকিলে তাহা অবশ্যই সঙ্গে লইয়া উপস্থিত হইবে।

(১) কোন ড্রাইভিং লাইসেন্সে কোন পৃষ্ঠ-লিখন থাকিলে উক্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীকে কোন নূতন ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রতিলিপি প্রদানের সময় সেই ব্যক্তি এই ধারার বিধান অনুসারে পৃষ্ঠ-লিখনমুক্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইবার অধিকারী না হওয়া পর্যন্ত পৃষ্ঠ-লিখনটি নূতন বা প্রতিলিপি ড্রাইভিং লাইসেন্সে স্থানান্তরিত হইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স পৃষ্ঠ-লিখন আবশ্যক হয়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সটি আদালতের বা পৃষ্ঠ-লিখন কর্তৃপক্ষের দখলে না থাকে, সেইক্ষেত্রে

(ক) যে ব্যক্তির সম্পর্কে পৃষ্ঠ-লিখন করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট সময়ে সে যদি ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী হইয়া থাকে, তবে পাঁচ দিনের মধ্যে বা আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘতর কোন সময় নির্দিষ্ট করিয়া দিলে সেই সময়ের মধ্যে তাহার লাইসেন্স আদালতে বা কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবে, অথবা

(খ) সে যদি সংশ্লিষ্ট সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী হইয়া পরবর্তীকালে ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করিয়া থাকে, তবে সে ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণের পর

পাঁচ দিনের মধ্যে আদালতে বা কর্তৃপক্ষের নিকট লাইসেন্স দাখিল করিবে; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি সে ড্রাইভিং লাইসেন্স দাখিল না করে, তবে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হইবার পর হইতে পৃষ্ঠ-লিখনের জন্য উহার দাখিল না করা পর্যন্ত লাইসেন্সটি অকার্যকরী হইয়া থাকিবে।

(৩) যে ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স পৃষ্ঠ-লিখন হইয়াছে, সর্বশেষ পৃষ্ঠ-লিখনের পর অব্যাহতভাবে তিন বৎসর যদি তাহার বিরুদ্ধে আর কোন পৃষ্ঠ-লিখনের আদেশ না হইয়া থাকে, তবে সেই ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স সমৰ্পণ করিলে এবং পঁয়ত্রিশ টাকা ফী প্রদান করিলে পৃষ্ঠ-লিখনমুক্ত নূতন ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইবার অধিকারী হইবে। পৃষ্ঠ-লিখন কেবলমাত্র গতিসীমা লংঘনের দরুন হইয়া থাকিলে, তবে সেই ব্যক্তি উক্ত আদেশের তারিখ হইতে এক বৎসর অতিবাহিত হইবার পর শর্তহীন ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইবার অধিকারী হইবে :

তবে শর্ত এই যে, উপরোক্ত তিন বৎসর ও এক বৎসর মেয়াদ গণনা করিবার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে সময়ের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ বা গ্রহণ করিবার অযোগ্য ছিল, সেই সময় বাদ দিতে হইবে।

(৪) যখন কোন আদালত কর্তৃক বা আদালতের আদেশক্রমে কোন একটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে পৃষ্ঠ-লিখন হয়, তখন আদালত সেই পৃষ্ঠ-লিখনের বিবরণ যে কর্তৃপক্ষ দ্বারা ড্রাইভিং লাইসেন্সটি সর্বশেষ নবায়নকৃত হইয়াছিল এবং যে কর্তৃপক্ষ উক্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স মঞ্জুর করিয়াছিল, তাহাদের নিকট পাঠাইবেন।

(৫) যেক্ষেত্রে কোন ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী কোন আদালতের আদেশ বলে ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ বা গ্রহণের অযোগ্য হইয়া পড়ে, সেইক্ষেত্রে আদালত তাহার ড্রাইভিং লাইসেন্সটির দখল গ্রহণ করিবেন এবং যে কর্তৃপক্ষ উহা মঞ্জুর করিয়াছিল বা সর্বশেষ নবায়ন করিয়াছিল সেই কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাইয়া দিবেন এবং সেই কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সটি সংরক্ষণ করিবেন যতদিন পর্যন্ত না অযোগ্যতার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় বা অযোগ্যতার প্রত্যাহার করা হয় এবং লাইসেন্সটি পাইবার অধিকারী ব্যক্তি উহা ফেরত দেওয়ার জন্য লিখিতভাবে দাবি জানায়।

তবে শর্ত এই যে, অযোগ্যতা যদি কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর বা প্রকারের মোটরযান চালনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হয়, তবে আদালত ড্রাইভিং লাইসেন্সটিতে পৃষ্ঠ-লিখন করিবেন এবং অযোগ্যতার আদেশের একটি অনুলিপি যে লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ ড্রাইভিং লাইসেন্সটি মঞ্জুর করিয়াছিল সেই কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাইবেন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সটি ধারকের নিকট উহা ফেরত দিবেন।

(৬) যেক্ষেত্রে কোন দণ্ডাদেশ বা আদালতের যে আদেশ, যাহা ড্রাইভিং লাইসেন্সে পৃষ্ঠ-লিখিত হইয়াছে, তাহার বিরুদ্ধে আপীল করা হইলে আপীল

আদালত দণ্ডাদেশ বা আদালতের আদেশটি বাতিল বা পরিবর্তন করেন, সেইক্ষেত্রে আপীল আদালত যে লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সটি সর্বশেষ নবায়ন করিয়াছিল, এবং যে কর্তৃপক্ষ উহা মঞ্জুর করিয়াছিল, বিষয়টি সেই উভয় কর্তৃপক্ষকে জানাইবেন এবং দণ্ডাদেশ বা আদালতের আদেশটি সম্পর্কিত পৃষ্ঠ-লিখন অনুরূপভাবে সংশোধন করিবেন বা করাইবেন।

ধারা-২২। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা :

(১) এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ কার্যকরী করিবার উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবেন।

(২) উপরোক্ত সাধারণ ক্ষমতা কোনরূপ ক্ষুণ্ণ না করিয়া প্রবিধানে নিম্নলিখিত বিষয়ে বিধান করা যাইবে

(ক) লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের নিয়োগ, এখতিয়ার, নিয়ন্ত্রণ ও কার্যাবলী এবং তাহাদের তত্ত্বাবধানমূলক কর্তৃত্ব ও নির্ধারিত বিষয়ে অন্যান্য কর্তৃত্ব:

(খ) যে সকল লোককে পরিবহনযান চালাইবার লাইসেন্স দেওয়া যাইবে, তাহাদের ন্যূনতম যোগ্যতা ও আচরণ;

(গ) এই ধারা অনুসারে যে সকল আপীল দায়ের হইবে সেইগুলি পরিচালনা ও শুনানি, অনুরূপ আপীলের জন্য প্রদেয় ফী এবং অনুরূপ ফী প্রত্যার্পণ

তবে শর্ত এই যে, উপরোক্ত কোন ফী পনের টাকার অধিক হইবে না;

(ঘ) ড্রাইভিং লাইসেন্স হারাইয়া গেলে, বিনষ্ট হইলে বা বিকৃত হইলে তদস্থলে প্রতিলিপি ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, যেই সকল ফটো অত্যধিক পুরাতন হইয়াছে তাহা পরিবর্তন, যেই সকল ব্যক্তি ড্রাইভিং শিক্ষা গ্রহণ করিতেছে তাহাদিগকে অথবা যাহাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স সমর্পিত হইয়াছে তাহাদিগকে অস্থায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান এবং সেই আদায়যোগ্য ফী:

(ঙ) কোন পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা অপর কোন নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে সকল শর্তসাপেক্ষে কোন ব্যক্তিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণের বা পরিবহনযান চালাইবার অযোগ্য ঘোষণা করিতে পারিবে;

(চ) পরিবহনযানের ড্রাইভারগণ যে সকল ব্যাজ ও উর্দি পরিধান করিবে এবং ব্যাজ ও উর্দি বাবদ যে ফী দিতে হইবে;

(ছ) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীদের ও ড্রাইভারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সেইজন্য আদায়যোগ্য ফী:

(জ) এই অধ্যায়ের বিধান অনুসারে প্রদত্ত ফী প্রত্যার্পণ এই অধ্যায় অনুসারে প্রদেয় ফী হইতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিগণকে বা নির্দিষ্ট শ্রেণীর ব্যক্তিগণকে রেহাই দান;

(ঝ) রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা ৭ ধারার (৩) উপধারা অনুসারে সার্টিফিকেট মঞ্জুর করা;

(ঞ) একটি লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষকে মঞ্জুরকৃত ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিবরণ অপর একটি লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষকে জ্ঞাত করা;

(ট) মোটরযানের ড্রাইভারগণকে শিক্ষাদানের স্কুল বা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ন্ত্রণ (অনুরূপ স্কুল বা প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রিকরণসহ) এবং অনুরূপ স্কুল বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট থাকিলে তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত পরীক্ষার প্রথম খন্ড হইতে সার্টিফিকেটধারীকে রেহাই দেওয়ার উদ্দেশ্যে উক্ত সার্টিফিকেট গ্রাহ্য করা;

 

মোটরযানসমূহের ড্রাইভারদের লাইসেন্স করা | মোটরযান আইন

 

(ঠ) রোড-রোলারের চালকগণকে এই অধ্যায়ের সকল বা যেকোন বিধান অথবা তদধীনে প্রণীত প্রবিধানের বিধান হইতে অব্যাহতি দেওয়া; এবং

(ড) অন্য যেকোন বিষয়ে, যাহা নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হইবে বা দেওয়া

হইতে পারে।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন