গাড়ি কেনার আগে যা ভাবতে হবে

গাড়ি কেনার আগে যা ভাবতে হবে : আপনি হয়তো একটা গাড়ি কেনার কথা ভাবছেন। কিন্তু গাড়ি এমন একটি জিনিস, যা জীবনকে অনেক সহজ করে দেয়, আবার ভাবনা চিন্তা না করে গাড়ি কিনলে তা প্রতিদিনের যন্ত্রণার কারণ হতে পারে। তাই কেনার সিদ্ধান্ত নেবার আগে অবশ্যই কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখবেন।

গাড়ি কেনার আগে যা ভাবতে হবে

[ গাড়ি কেনার আগে যা ভাবতে হবে ]

১. নতুন, রিকন্ডিশন নাকি পুরনো গাড়ি:

নতুন, রিকন্ডিশন নাকি পুরনো গাড়ি। এটা সবচেয়ে প্রথম প্রশ্ন। কারণ আপনার সঞ্চয়, নিয়মিত আয়, গাড়ি কেনার বাজেট, ব্যবহারের ধরণ, ইত্যাদির উপরে ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্তটি নিতে হবে।

বাংলাদেশে পুরনো গাড়িতে ব্যাংক ফাইনান্স করে না। তাই আপনি পুরনো গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিলে আপনার পুরো টাকাটা একবারে দিয়ে কিনতে হবে। তবে পুরনো গাড়ি অনেক ক্ষেত্রে যেহেতু ৩০-৪০% বা কিছু ক্ষেত্রে অর্ধেক দামে পাওয়া যায়। তাই সঞ্চয় থাকলে এই অপশনটি ভেবে দেখার মতো। তবে পুরনো গাড়ি হালকা ডিউটির জন্য ভালো। আপনি যদি শুধু অফিসে বা বাসায় যাতায়াতে ব্যবহার করেন, তবে পুরনো গাড়ি আপনার অপশন হতে পারে। কিন্তু গাড়ি নিয়ে বহু দূরবর্তী শহরগুলোতে ঘুরে বেড়াতে চাইলে পুরনো গাড়ি ভালো অপশন নয়। সেক্ষেত্রে আপনাকে নুন্যতম রি-কন্ডিশন কিনতে হবে। পুরানো গাড়িতে মেইনটেনেন্সে খরচও বেশি। আপনি যদি গাড়ি সম্পর্কে একটু জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে নেন, তবে পুরনো গাড়ি আপনার জন্য ভালো।

রি-কন্ডিশন গাড়ি কেনার সুবিধা হচ্ছে আপনি ৫ বছর পর্যন্ত ব্যাংক ফাইনান্স পাবেন। আবার একেবারে নতুন গাড়ির চেয়ে ২৫-৩০% কম দামেও পাবেন। তাই মধ্যবিত্যদের জন্য রি-কন্ডিশন ভালো অপশন। আপনি রিকন্ডিশন গাড়ি নিয়ে শহরে নিয়মিত চলাচলের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতেও যেতে পারবেন। হঠাৎ রাস্তার মধ্যে নষ্ট হবে এরকম দুশ্চিন্তা খুব একটা থাকবে না। রিকন্ডিশন গাড়িতে মেইনটেনেন্স খরচ নতুন এর চেয়ে একটু বেশি তবে পুরানো গাড়ির চেয়ে অনেক কম।

আপনার বাজেট ভালো থাকলে নতুন গাড়ি সবচেয়ে ভালো অপশন। যেকোন ধরনের রাস্তায়, যেকোন দুরত্বে ব্যবহারের জন্য নতুন গাড়ি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। নতুন গাড়িতেও আপনি আপনি ৫ বছর পর্যন্ত ব্যাংক ফাইনান্স পাবেন।

প্রথমেই নজর রাখতে হবে আপনার বার্ষিক আয়ের ওপর। পারিবারিক মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি কখনই গাড়ির পিছনে খরচ করা ঠিক নয়। স্বামী স্ত্রী যদি দুজনে ১০ লক্ষ টাকা আয় করেন তাহলে তারা পাঁচ লক্ষ টাকার গাড়ি কিনতেই পারে।

২. গাড়ির আকার প্রকার:

আপনার পরিবারের সদস্য, ব্যবহারের ধরণ, বাসায় আসার রাস্তা এবং পার্কিং সুবিধা বিবেচনা করে গাড়ি কিনুন। গাড়ির মডেলের প্রতিযোগিতায় নামবেন না। আপনার প্রয়োজনের সাথে যেটা সবচেয়ে বেশি মানানসই সেই গাড়িটি কিনবেন। অকারণে বেশি সিসির গাড়ি কিনবেন না। তাতে বাৎসরিক রিনিউয়াল খরচ বাড়বে।

৩. বার্ষিক আয়:

এরপর নজর রাখতে হবে আপনার বার্ষিক আয়ের ওপর। পারিবারিক মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি কখনই গাড়ির পিছনে খরচ করা ঠিক নয়। স্বামী স্ত্রী যদি দুজনে ১০ লক্ষ টাকা আয় করেন তাহলে তারা পাঁচ লক্ষ টাকার গাড়ি কিনতেই পারে। তবে গাড়ির অন-রোড চার্জের দিকে নজর রাখতে হবে। কারণ শো রুমের চার্জের থেকে অন রোড চার্জ ও রেডিস্ট্রেশন চার্জ রোড ট্যাক্স বিমা অনেক বেশি। শো-রুম চার্জের তুলনায় প্রায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি।

৪. লোন নেওয়ার পরিকল্পনা

গাড়ি কেনার জন্য যদি লোন নেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে আগে থেকেই তার ব্যবস্থা করুন। দ্বিতীয়ত লোন নিলেও গাড়ির দামের ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট করুন। মাত্র চার বছরের জন্যই লোন নিন। না হলেও বিমাসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাবে।

৫. নেতিবাচক সমস্যা:

আপনি যেই আপনার গাড়ি শো-রুম থেকে বার করবেন তখনই তার দাম ২০ শতাংশ কমে যাবে। পাঁচ বছরের মধ্যে গাড়ির দাম অর্ধেক হয়ে যাবে। আপনি যদি বেশি টাকা ঋণ নেন তাহলে পরবর্তীকালে গাড়ি বিক্রি করলেও তেমন কোনও লাভ থাকবে না।

৬. গাড়িকে সঞ্চেয়ের বিষয় নয়:

গাড়ি কেনার আগে হিসেব করে নিন। দেখে নিন গাড়ির ঋণ মিটিয়েও আপনি যেন আয়ের ১০ শতাংশ সঞ্চয় করতে পারেন। যদি তা হয় তাহলে এখনই গাড়ি কেনার পরিকল্পনা পরিত্যাগ করুন। কারণ গাড়ি কিলনে আনুসাঙ্গিক খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়।

তবে গাড়ি সম্পত্তি হিসেবে তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও এটি শখের হয়েই থাকে। তাই গাড়ি কিনতে যাওয়ার পরিকল্পনা করতেই পারেন। তবে সবথেকে আগে দেখে নিতে হবে আপনার পকেট কতটা সঙ্গ দেয় আপনার শখ পুরণ করতে। অফিসের কলিগ বা প্রতিবেশিদের সাথে প্রতিযোগীতা করে গাড়ি কেনা কোন কাজের কথা নয়। আপনার যেই গাড়িটি প্রয়োজন, সেটাই কেনা উঁচিৎ। আপনার ইএমই কলিগ দিয়ে যাবে না। আপনার বার্ষিক রিনিউয়াল খরচ প্রতিবোশি দেবে না। আপনার গাড়ি গ্যারাজে থাকলে কেউ মাথা ঘামাবে না। তাই করার আগে ভাবতে হবে।

আরও দেখুন:

মন্তব্য করুন